পঠিত বিষয়গুলোর ওপরই বেশি প্রশ্ন ছিল

যশোরের মণিরামপুর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০০৬ সালে এসএসসি এবং ২০০৮ সালে মণিরামপুর কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করি। ভর্তি হই রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) পুরকৌশলে। পাস করার পর বছর দুয়েক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে মনে হলো—নিজেকে যেখানে দেখতে চেয়েছি, এটা সে জায়গা না! মনে মনে ঠিক করি—বিসিএস দেব। ২০১৬ সালে ৩৭তম বিসিএসে আবেদন করি।

বিসিএস প্রস্তুতির শুরুতেই এক ভাইয়াকে ভালো মেন্টর হিসেবে পেয়েছিলাম, তিনি ৩৩তম বিসিএসে গণপূর্ত ক্যাডারে কর্মরত। বিসিএস প্রস্তুতির জন্য কোনো কোচিং করিনি। দরকারি সব পরামর্শ, দিকনির্দেশনা, টিপস ওই ভাইয়ার কাছ থেকেই পেয়েছি। প্রকৌশলের ছাত্র হওয়ায় বিসিএসের পাশাপাশি প্রকৌশলবিষয়ক চাকরি যেমন—ওয়াসা, পানি উন্নয়ন বোর্ড, পেট্রোবাংলা এসবের নিয়োগের প্রস্তুতিও নিচ্ছিলাম। যখন প্রিলিমিনারি দিই, তখনো কেন জানি মনে হচ্ছিল—এটা জাস্ট ট্রায়াল, পরেরবার সিরিয়াস হয়ে আবার দেব। তবে প্রিলি দিয়ে এসে মনে হচ্ছিল ‘পাস করব’। তাই লিখিত পরীক্ষার জন্য হালকা-পাতলা প্রস্তুতি নিয়েছি। প্রিলি পাস করে লিখিত দেওয়ার সুযোগ হলো। লিখিত দিয়েও মনে হলো ‘ভালো নম্বর পেয়ে পাস করব’। তা-ই হলো।

আমার মতে, ভাইভার প্রস্তুতির সময় সবার আগে ‘নিজেকে জানতে হবে’। আমি কী বলছি, সে ব্যাপারে পূর্ণ জ্ঞান রাখতে হবে। আমার প্রত্যেকটা কথা, কথার সঙ্গে অঙ্গভঙ্গি গুরুত্বপূর্ণ। আমার বলা কথাগুলোর সূত্র ধরেই পরের প্রশ্ন করা হতে পারে। এসবের ভিত্তিতেই আমার ব্যাপারে বোর্ডের মূল্যায়ন কিংবা অভিব্যক্তি আসবে। টেকনিক্যাল ক্যাডারের প্রার্থী ছিলাম, আমাকে পঠিত বিষয় থেকেই বেশি প্রশ্ন করা হয়। যেমন—কলামের ক্লিয়ার কাভার কত? এই প্রভিশন কোথায় দেওয়া আছে?

নিজের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। কারণ এর আগে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির আবেদন করে বেশ কয়েকটি ভাইভায় অংশ নিয়েছি, যেমন—বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডে সহকারী প্রকৌশলী পদে দুইবার, ঢাকা ওয়াসার সহকারী প্রকৌশলী পদে একবার, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের প্রকৌশলী পদে একবার, নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টে সহকারী প্রকৌশলী পদে একবার, জিটিসিএলে একবার।

ভাইভার প্রস্তুতির সময় পঠিত বিষয়—নিজ জেলা সম্পর্কে যতটা সম্ভব জানার চেষ্টা করেছি। মনে হচ্ছিল, বর্তমান রাজনীতি বা বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ে আমার জানায় কিছু ভুল অথবা অসম্পূর্ণতা থাকতেই পারে, সেটা মার্জনীয়। তবে আমার পঠিত বিষয়, নিজের পরিচয়, নিজের জন্মস্থান, জন্মদিন, মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু—এসব বিষয়ে ভুল হলে সব শেষ!

ভাইভা বোর্ডে ঢুকে নার্ভাস হয়ে গিয়েছিলাম। তবে জানা প্রশ্নের উত্তর ভুল করিনি। স্যাররা আন্তরিক ছিলেন।
আমি টেকনিক্যাল ক্যাডারের প্রার্থী ছিলাম, আমাকে পঠিত বিষয় থেকেই বেশি প্রশ্ন করা হয়। যেমন—কলামের ক্লিয়ার কাভার কত? এই প্রভিশন কোথায় দেওয়া আছে? উত্তরে বলেছিলাম দেড় ইঞ্চি, এসিআই। তার পরে প্রশ্নটি ছিল ‘গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের কুফল হিসেবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ক্ষতি হবে কী?’ উত্তরে বলেছিলাম—সুন্দরবনসহ নিচু ভূমি পানিতে তলিয়ে যাবে। এভাবে প্রায় সব প্রশ্নেরই প্রথমে উত্তর দিয়েছিলাম।

ভাইভা শেষে মন বলছিল—কাঙ্ক্ষিত ক্যাডারই পাব। ভাবনাটাই সত্যি হলো। ২০১৯ সালের এপ্রিলে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের মনিটরিং ডিভিশনের সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দিই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *